1. s114780@yahoo.com : admin :
  2. info@cgsecondaryschool.edu.bd : Our School : Our School
  3. school@cgsecondaryschool.edu.bd : Our School : Our School

ঝুকিপূর্ণ ভবণ! পরিত্যক্ত মসজিদ! খেলার অনুপযোগী বড় মাঠ! অবকাঠামো ও আসবাবপত্র সংকট ; নেই বেষ্টনী, হল রুম, মান সম্মত ছাত্রী কমন রুম, খেলার সামগ্রী ও শ্রেণি কক্ষে যাবার রাস্তা

ঝুকিপূর্ণ ভবণ! পরিত্যক্ত মসজিদ! খেলার অনুপযোগী বড় মাঠ! অবকাঠামো ও আসবাবপত্র সংকট ; নেই বেষ্টনী, হল রুম, মান সম্মত ছাত্রী কমন রুম, খেলার সামগ্রী ও শ্রেণি কক্ষে যাবার রাস্তা।

ঝুকিপূর্ণ ভবন:-১

Exif_JPEG_420


 

চুলকাটি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন। এটি দোতলা বিশিষ্ট ভবন। দোতলায় রয়েছে প্রধান শিক্ষকদের কক্ষ , শিক্ষকদের কক্ষ, অফিস, লাইব্রেরী ও ছাত্রী কমন রুম।নিচের তলায় রয়েছে ৩ টি শ্রেণি কক্ষ।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর  পরই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটিকে ঝুকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন। উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ( ম্যানেজিং কমিটি, এলাকাবাসী  ও শিক্ষকবৃন্দ) ভবনটিকে  ঝুকিপূর্ণ মনে করে পরিত্যক্ত করে রাখেন। এর ২/৩ দিনের মধ্যে  অবকাঠামো সংকটের কারণে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বসার স্থানের সংকুলান না হওয়ায় ভবনের নিচের তলায় শিক্ষক-কর্মচারীরা সাময়িক সময়ের জন্য ঝুকি নিয়ে অফিস করতে থাকেন। এর ফলেও শ্রেণি  কক্ষ সংকট তৈরি হয়। উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমস্যাটি আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। দিনে দিনে শ্রেণি কক্ষের সংকট প্রকট হওয়ায় এবং বিকল্প কোন উপায় না থাকায় সংশ্লিষ্টদের অবগত করিয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনের দোতলায় আবারও  শিক্ষক-কর্মচারীরা বসতে বাধ্য হন এবং নিচের তলায় ঝুকির মধ্যে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষ চালু করতে বাধ্য হন। মাঝে মধ্যে উপরের ছাদ থেকে প্লাষ্টার ধ্বসে পড়ে। মাঝে মধ্যে সংস্কার করে সেই ২০১৩ সাল থেকে ঝুকিপূর্ণ ভবনে আতংকের মধ্যে এক সময়ের পরিত্যক্ত ভবনে এখনো চলছে অফিস ও শ্রেণি কক্ষ। 

 

 

ঝুকিপূর্ণ ভবন:-২

Exif_JPEG_420

বিদ্যালয়ের আরেকটি ঝুকিপূর্ণ ভবণ হলো বিদ্যালয়ের ফ্যাসিলিটিস ভবন। ১৯৯৬ সালে ভবনটি স্থাপিত হলেও ভবনটি অল্পদিনেই  ভনটির ছাদের প্লাষ্টার নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি হলেই  ছাদ থেকে  পড়ে বৃষ্টি। প্লাষ্টার পড়ে ভিতরের রড বের হয়ে আছে। মাঝে মধ্যে উপরের ছাদ থেকে প্লাষ্টার ধ্বসে পড়ে। ভবনটি প্রথম পর্যায়ে এক তলা হলেও হলেও পরে এক তলা ছাদের এক পাশে একটি কক্ষ ছাদ দিয়ে আরেক পাশে টিন  শেড দিয়ে দোতলার কক্ষগুলি তৈরি করা হয়। নিচের তলায় রয়েছে ৩ টি কক্ষ। আনুমানিক ২০১৬ সালে নিচের ৩ টি কক্ষই পরিত্যক্ত করা হয়। কিন্তু  শ্রেণি কক্ষের সংকটের কারণে এক মাসের মধ্যেই একটি কক্ষকে  আবারও শ্রেণি কক্ষ হিসাবে ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এর ২/১ মাসের মধ্যে শ্রেণি কক্ষ সংকট মোকাবেলায় আরও একটি কক্ষকে শ্রেণি কক্ষ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

 

Exif_JPEG_420

       পরিত্যক্ত মসজিদ

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর  মুসলিম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নামাজ পড়ার জন্য এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকদের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি টিনশেড মসজিদ নির্মাণ করা হয়ছিল। মসজিদ অবস্থানগত এবং দীর্ঘদিন পরিচর্চার অভাবে  ২০১২ সালে মসজিদটি পরিত্যক্ত  হয়ে পড়ে। ২০২৩ সাল থেকে  মুসলিম শিক্ষর্থী ও শিক্ষকদের নামাজের জন্য একটি শ্রেণি কক্ষ ব্যবহার  করা হচ্ছে।

 

 

Exif_JPEG_420

      অনুপযোগী খেলার বড় মাঠ

এতদ অঞ্চলের খেলাধুলায় খ্যাত এবং সবচেয়ে খেলাধুলার বড় মাঠ হিসাবে এখনও পরিচিত এক সময়ের সেই চুলকাটি স্কুল মাঠ। যেখানে বছরের বিভিন্ন সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল , এমনকি দেশের বাইরের খেলোয়াড়রাও এখানে বল খেলতে আসতো।  মাঠ এখনো বড় রয়েছে। তবে নেই মাঠের পরিচর্চা। পানি জমে মাঠটি এখন এমন উচু-নিচু / অসমান হয়ে পড়েছে , বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন মাঠে খেলাধুলা করতে পারে  না। মাঠ সংস্কারের অভাবে একদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ হারাচ্ছে। অন্যদিকে এলাকার যুব সম্প্রদায় খেলাধুলা ছেড়ে দিয়েছে। এতে এলাকার যুব সমাজের বিপথগামীর সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

 

অবকাঠামো সংকট:

অবকাঠামো সংকট রয়েছে প্রকট আকারে। নেই পর্যাপ্ত ভবন ও  শ্রেণীকক্ষ। ঝুঁকিমুক্ত  শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হয় বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের নতুন ভবনের তিনটি কক্ষ। বিদ্যালয়ের বাকি কক্ষগুলো শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী। বাকি সব শ্রেণীর কক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কার ও কোনভাবে জোড়াতারি দিয়ে  কোনভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদানের শ্রেণিকক্ষ হিসাবে  ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীকক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, অফিস কক্ষ, লাইব্রেরী, বিজ্ঞানাগার মাল্টিমিডিয়া রুম, ছাত্রী কমন রুম, চেঞ্জিং রুম, শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের নামাজের কক্ষ,  টি-রুম, স্টক রুম, কম্পিউটার ল্যাব এগুলি চলছে পরিত্যক্ত ও ঝুকিপূর্ণ ভবনে।

 

আসবাবপত্রের সংকট:

বিদ্যালয়ে আসবাবপত্রের রয়েছে অনেক সংকট। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চ থাকলেও সব শ্রেণিকক্ষে টেবিল, চেয়ার,  ডায়েস নেই।

অফিসে প্লাষ্টিকের চেয়ার দিয়েই চেয়ারের অভাব মেটানো হচ্ছে। কিন্ত নেই প্রয়োজনীয় আলমিরা ও তাক। শিক্ষকের কক্ষে নেই প্রয়োজনীয় চেয়ার, সোফা সেট, আলমিরা।

 

Exif_JPEG_420

 প্রাচীর বিহীন ( বেষ্টনী বিহীন) বিদ্যালয়:

বিদ্যালয়টির  এরিয়া ৩ একর। এই ৩ একর জমির মধ্যে রয়েছে কয়েকটি নতুন-পুরাতন ভবন আর একটি মসজিদ সংলগ্ন জমি। বাকি অংশই হলো খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ে একটি গেট করা হলেও সেটি এখন ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে পড়েছে। এতো বড় এরিয়ার  নেই কোন প্রাচীর। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিদ্যালয়ের প্রাচীর অতি জরুরী। 

 

 

 

Exif_JPEG_420

বিদ্যালয়ে নেই কোন হল রুম:

বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দু:খজনক বিষয় হলো বিদ্যালয়ে কোন হল রুম নেই। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোন আলোচনা অথবা কোন অনুষ্ঠান করার মতো স্থান নেই। পুরাতন টিন শেডের দুইটি কক্ষকে এক করে হল রুম হিসাবে ব্যবহার করা হলেও ২০১৫ সালে টিনশেডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হল রুম হিসাবে ব্যবহার করার মতো কোন কক্ষ নেই। বিদ্যালয়ে হল রুম না থাকলে কতোবড় সমস্যায় পড়তে হয়, ‍তা’ শুধু তারাই জানে যাদের বিদ্যালয়ে হল রুম নেই। 

 

 

Exif_JPEG_420

ছাত্রী কমন রুম ও চেঞ্জিং রুম:

বিদ্যালয়টি সহ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্র-ছাত্রী উভয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। পাশে বালিকা বিদ্যালয় থাকার কারণে অত্র বিদ্যালয়ে ছাত্রী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তাই ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য শিক্ষক মিলায়নের পাশেই ছাত্রী কমন রুম রাখা হয়েছে। ছাত্রী কমন রুমে ছাত্রীদের গল্প করে, খেলাধুলা করে, হাসি-আনন্দে সময় কাটানোর কথা থাকলেও আমরা পারি নাই ছাত্রীদের এ সকল সুবিধা দিতে। রয়েছে  নাম মাত্র ছাত্রী কমন রুম। নেই মান সম্মত কোন ব্যবস্থা। বর্তমান সময়ে ছাত্রীদের চেঞ্জিং রুম অত্যন্ত জরুরী  এবং চেঞ্জিং রুম ছাড়া কোন বিদ্যালয় মান সম্মত হতে পারে নাই।

 

 

শিক্ষার্থীদের নেই পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী:

বিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রীদের নেই পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী। সময়োপযোগী খেলার সামগ্রী সকল শিক্ষর্থীর প্রত্যাশিত থাকলেও অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তা’ পূরণ হয় না। বিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তায় যতটুকু সম্ভব তা’ পূরণ করা হয়। 

Exif_JPEG_420

অফিস থেকে শ্রেণি কক্ষে যাবার রাস্তা নেই:

দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও সত্য বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও অফিসের দুরত্ব অনেক। অফিস ও শ্রেণি কক্ষে যাতায়াতের জন্য কোন ধরণের রাস্তা নাই। মাঠ পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। একইভাবে মূল রাস্তা থেকে বিদ্যালয়ের অফিসে বা শ্রেণি কক্ষে আসা-যাওয়ার জন্যও কোন ভাল রাস্তা নাই। বিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তায় ইটের সলিং করা হলেও ধীরে ধীরে তা’ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

 

 

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের অপর্যাপ্ততা:

বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার  কোন রুম নাই। নেই ল্যাবও। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষকে মাল্টিমিডিয়া কক্ষ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্র বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নেই ডিজিটাল ল্যাব। 

 

Exif_JPEG_420

লাইব্রেরীতে নেই বিশেষ কোন সুবিধা:

বিদ্যালয়ের  রয়েছে নাম মাত্র লাইব্রেরী। লাইব্রেরীর জন্য যেমন নেই কোন প্রয়োজনীয় জায়গা , তেমনি নেই  লাইব্রেরীর অন্যান্য সুবিধাও।

 

এসএসসি পরীক্ষা হিসাবে নেই বিশেষ কোন বাড়তি সুবিধা:

সাধারনত এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে অবকাঠামো , উন্নয়ন সহ অন্যান্য বিষয়গুলিকে প্রাধাণ্য হিসাবে মনে করা হলেও কেন্দ্রস্থ বিদ্যালয়টি এসব সুবিধা থেকে ক্রমাগত অবহেলিত। 

© All rights reserved © 2025 Chulkati School
Developed BY Md.Al Fahad