বৃটিশ
শাসনামলে তৎকালীন পূর্ব বাংলা বর্তমান বাংলাদেশ ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পিছিয়ে। বিশেষ করে দক্ষিণ- পশ্চিম অঞ্চলের এ এলাকাটি ছিল আরও পিছিয়ে। বাগেরহাট জেলার বাগেরহাট সদর উপজেলা ও ফকিরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী চুলকাটি ও ঘনশ্যামপুর এলাকার কাছাকাছি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকাবাসী ছিল শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এ সময় ঘনশ্যামপুর গ্রামের মরহুম সৈয়দ আলী ফকির এবং চুলকাটি গ্রামের স্বর্গীয় শ্রী কৃষ্ণ ভূষণ দেবনাথ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে জ্ঞানের আলোক বর্তিকা হিসাবে অগ্রসর হন। এই মহান ব্যক্তিদ্বয় প্রতিষ্ঠা করেন এই বিদ্যালয়টি । তাদের এ উদ্যোগে জমিদাতা ১) স্বর্গীয় শ্রী কৃষ্ণ ভূষণ দেবনাথ ২) শ্রী অনাথ বন্ধু দেবনাথ ৩) শ্রী অমিয় রঞ্জন দেবনাথ সহ এলাকার বিভিন্ন সহৃদয় ব্যক্তিবর্গের অনুদানে এবং অত্র এলাকার বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের সক্রিয় সহযোগিতায় ০১/০১/১৯৪২ সালে স্থাপন করা হয় চুলকাটি ঘনশ্যামপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে স্বর্গীয় ভূগেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করেন করেন। স্থানীয় শিক্ষিত/স্নাতক অধ্যয়ন রত ছাত্ররা সতস্ফুর্তভাবে পাঠদানের দায়িত্ব নেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে পড়াশোনা করতে থাকে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ব্যাপক সাড়া ও তাদের চাহিদা থাকায় ০১/০১/১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাধ্যমিকে বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
চুলকাটি এলাকা বাগেরহাট সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। ঘনশ্যামপুর ফকিরহাট উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যালয়টি অফিসিয়ালভাবে বাগেরহাট সদর উপজেলাধীন হলেও বিদ্যালয়ের জমি-জমার অর্ধেক ফকিরহাট উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ ফকিরহাট উপজেলার অধিবাসী।
এই দুই গ্রামের যৌথ নামে নামকরণ করা হয়েছে চুলকাটি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।



